জুলাই অভ্যুত্থানের সংগঠক ও সমন্বয়কদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনের সম্মুখসারির ৬ জন সমন্বয়ককে ইতোমধ্যে গানম্যান (সশস্ত্র দেহরক্ষী) দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তায় আরও অন্তত ২০ জনকে গানম্যান দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের উর্ধ্বতন একটি সূত্র সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারার নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই গানম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, খুব শিগগিরই গানম্যান পাচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) প্রধান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
বর্তমানে গানম্যান পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা তালিকায় আরও রয়েছেন—গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ঢাকা-৪ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) এলাকা থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, পাবনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাফির তুহিন, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ আরও অন্তত ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এদিকে, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ হারানো ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাদির এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও একজন গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মূলত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবীদের ওপর সম্ভাব্য হামলা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ প্রটোকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাদের জীবনের ঝুঁকি বেশি বলে মনে হচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।