অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই—এমন দাবি তুলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।
শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিবৃতিতে শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী দল হিসেবে জন্ম নেওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সবসময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল। তবে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশবাসী যে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেছে, তা নজিরবিহীন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বিবৃতিতে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দলটি মনে করে, বর্তমানে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের চরম অবনতি ঘটেছে। উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। এমন জটিল ও অস্থির পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া অসম্ভব বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এবং তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে দলের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে সমালোচনা করেছিলেন।