দেড় যুগ পর ফিরল জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা: কাল থেকে শুরু, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী

0
39

দীর্ঘ ১৮ বছরের বিরতি কাটিয়ে আগামীকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে মোট ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী এই মেধা যাচাইয়ের মঞ্চে ফিরছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই পদ্ধতিতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন পরিদর্শক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

পরীক্ষার মানবণ্টন ও সূচি: মোট ৪০০ নম্বরের ওপর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়ভিত্তিক নম্বর হলো— বাংলা (১০০), ইংরেজি (১০০), গণিত (১০০), বিজ্ঞান (৫০) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০)। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

সূচি অনুযায়ী:

  • ২৮ ডিসেম্বর (রোববার): বাংলা

  • ২৯ ডিসেম্বর (সোমবার): ইংরেজি

  • ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার): গণিত

  • ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার): বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (প্রতিটি দেড় ঘণ্টা করে)।

এবার পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা অনুমোদিত ৮টি মডেলের নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এনসিটিবি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আলোকেই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। বৃত্তির মোট সংখ্যার ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চালু হওয়ায় এই বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আবারও এই পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরেছে সরকার।