তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তৎপর থাকা বিএনপি শনিবার বেশ কিছু আসনে প্রাথমিক মনোনয়নে পরিবর্তন এনেছে। রাজধানী ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন দিয়েছে দলটি। ঢাকা-১২ আসনে যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের পরিবর্তে এখন লড়বেন সাইফুল হক।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতেও দেখা গেছে বড় চমক। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে বিএনপির শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামের হেভিওয়েট নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আসন পরিবর্তন করে তাকে চট্টগ্রাম-১০ এর পরিবর্তে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাইদ আল নোমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
যশোরের নির্বাচনী সমীকরণেও বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতেই আগের প্রার্থীদের বদলে নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যশোর-১ আসনে মফিকুল হাসান তৃপ্তির পরিবর্তে নুরুজ্জামান লিটন, যশোর-৪ আসনে টিএস আইয়ূবের পরিবর্তে মতিয়ার রহমান ফারাজী এবং যশোর-৬ আসনে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের পরিবর্তে আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যশোর-৫ আসনটি শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
পিরোজপুর-১ আসনেও এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। শুরুতে এই আসনে জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে তার শারীরিক অসুস্থতা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে তাকে সরিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র তুলে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি হাই কমান্ড মনে করছে, এই রদবদল নির্বাচনে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং জোটের সংহতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।