চাঁদা না দেওয়ায় হাতিয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম

0
32

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মেহরাজ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় ইউনুছ মাঝিসহ চারজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর ইউনুছ মাঝি ও তার সহযোগীরা মেহরাজ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে জানমালের ক্ষতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৪ ডিসেম্বর সকালে মেহরাজ উদ্দিন নিজের চাল ভাঙার মেশিনে কাজ করার সময় সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলার সময় ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় একাধিক কোপ দেওয়া হয়, এতে মাথার খুলি ও হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এ এস এম আরিফ জানান, মেহরাজ উদ্দিনের মাথার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী মেহরাজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ইউনুছ মাঝি, তার ছেলে হাসান ও রাজু এবং পাশের এলাকার আয়াত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। এর আগেও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।