মিয়ানমারে সামরিক তত্ত্বাবধানে নির্বাচনে ইউএসডিপির বড় জয় দাবি

0
28

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল ভোটের জয় দাবি করেছে জান্তাপন্থী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। সোমবার দলটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে সাক্ষাৎকারে প্রথম ধাপের নির্বাচনে তাদের বিজয়কে ‘ভূমিধস জয়ের’ সমতুল্য উল্লেখ করেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, সামরিক জান্তার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশটিতে সামরিক শাসনকে আরও শক্তিশালী করবে। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। চার বছর পর তারা জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করলেও এই নির্বাচনের ওপর বিরোধী দল ও জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত।

ইউএসডিপি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের প্রথম ধাপে নিম্নকক্ষের ৮০ শতাংশের বেশি আসন তারা জিতেছে। অনেক বিশ্লেষক ইউএসডিপিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বেসামরিক প্রক্সি দল হিসেবে বিবেচনা করেন। রাজধানী নেপিদোর আটটি শহরের সব আসন জয়ের দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।

২০২০ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিজয়ী হয়েছিল, কিন্তু অভ্যুত্থানের পর এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে অং সান সু চি আটক রয়েছেন, এবং দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনের নিন্দা জানিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক মর্গান মাইকেলস বলেন, “নির্বাচনে ইউএসডিপির আধিপত্য স্বাভাবিক।” তবে এএফপিকে তিনি বলেছেন, “নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়; জান্তা নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করছে, ভোটারদের বাধ্য করছে এবং কারচুপি করছে।”

মিয়ানমারের ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি। আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি আরও দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার ভোটের পর সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং বলেন, তারা ক্ষমতা অবাধভাবে বেসামরিক নেতৃত্বে হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশের ৩৩০ শহরের মধ্যে ১০২টিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তবে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে প্রায় প্রতি পাঁচটির একটি আসনে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি।

সূত্র: এএফপি