কক্সবাজারে গুলিবিদ্ধ যুবদল নেতা ফারুকের মৃত্যু

0
43

কক্সবাজারে মোটরসাইকেল আরোহী হেলমেটধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ১৮ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ ফারুক (৩৪)। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফারুক কক্সবাজার বৃহত্তর বাস টার্মিনাল যুবদল ইউনিটের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং স্থানীয় কবির আহমেদের ছেলে। একই হামলায় গুলিবিদ্ধ ওই ইউনিটের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম এখনো চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ফারুকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পশ্চিম লারপাড়া এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে দেখা যায়, হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে ফারুক ও সাইফুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফারুকের কোমরের নিচে ও পিঠে দুটি গুলি লাগে।

হামলার পর তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল দাবি করেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুলের দুই ভাই খুন হন; একই প্রতিপক্ষ এই হামলার পেছনে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় ১০ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়। ফারুকের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর ভোরে বান্দরবানের লামার একটি রিসোর্ট থেকে আত্মগোপনে থাকা পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কামরুল হাসান বাবু, ইমরান উদ্দিন খোকা ওরফে আরিয়ান খোকা, আব্দুল কাইয়ুম, মো. সাকিব ও মাসুদ হাসান বকুল। তারা বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ৭.৬৫ ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করা হয় এবং কামরুল হাসান বাবুকে কথিত শুটার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, ফারুকের মৃত্যুর পর মামলার ধারা পরিবর্তনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও অন্য জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।