খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

0
72

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারাল। এই ক্ষতিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

ড. ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, অবদান এবং জনগণের সঙ্গে তার আবেগী সম্পর্কের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার চলতি মাসেই তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপোষহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্তির প্রেরণা দিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তার দীর্ঘ পথচলা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় রাজনীতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।

ড. ইউনূস স্মরণ করেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির অঙ্গনে এসে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের দুঃশাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে তিনি নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ব্যতিক্রমীভাবে সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনগুলোতে তিনি একাধিক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সালেও যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, সেখানেই বিজয়ী হন।

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন বলেও শোকবার্তায় উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তার আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াইয়ে জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তাকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে এবং মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে যার যার অবস্থান থেকে মরহুমার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান তিনি।