বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম।
সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে ৯টায় শেষ হওয়া ওই সভায় ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ এবং ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ বিক্ষোভ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে মিছিল নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। এ সময় কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা ‘জকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘ভুয়া ভুয়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসিনা রউফ বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ফিরে আসছিল, এতে সবার মধ্যে আনন্দ ছিল। কিন্তু প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছে, যা তারা মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্য কানিজ ফাতেমা কাকলী বলেন, নির্বাচন কমিশন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। যেহেতু সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাই আপাতত জকসু নির্বাচন স্থগিত থাকবে। তিনি আরও বলেন, পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করতে হলে নতুন করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পরে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সর্বসম্মতিক্রমে জকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়।
২০০৫ সালে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এতদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫’-এ ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত ধারা না থাকায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের দাবির পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৮ অক্টোবর জকসু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এরপর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৫ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ভোটের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২২ ডিসেম্বর, তবে ভূমিকম্পের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় তা পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।