যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তাইওয়ানকে ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তার ঘোষণার মাত্র ১১ দিন পর চীন দ্বীপটির চারপাশে “জাস্টিস মিশন ২০২৫” নামে ব্যাপক সামরিক মহড়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার চীনের পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড ১০ ঘণ্টার এই মহড়ায় রকেট নিক্ষেপ, সামুদ্রিক ও আকাশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং উপকূলীয় সাবমেরিন প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় তারা প্রথমবারের মতো টাইপ ০৭৫ অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ প্রদর্শন করে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দেয়, যা হেলিকপ্টার ও ল্যান্ডিং ক্রাফট পরিচালনাসহ উভচর আক্রমণে সক্ষম।
এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা বলে জানিয়েছে বেইজিং। চীনা কর্মকর্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যারাই হস্তক্ষেপ করবে, চীনা সেনাবাহিনী তাদের “রক্তাক্ত করে” রুখে দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রের আধুনিকায়ন তাইওয়ানকে কোণঠাসা করার কৌশল। এরই অংশ হিসেবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ডের কমান্ডারকে পূর্ণ জেনারেল পদে উন্নীত করেছেন। পেন্টাগনের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে এবং এবারের মহড়ায় কিলুং ও কাওহসিয়ুং বন্দর অবরোধের অনুশীলনই ছিল কেন্দ্রবিন্দু।
মহড়ায় চীনা বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হাইমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেম ধ্বংসের অনুশীলন করে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার দ্বীপটির চারপাশে চীনের ৭১টি সামরিক বিমান, ২৪টি নৌ ও কোস্ট গার্ড জাহাজ অবস্থান করছিল এবং মোট ২৭টি রকেট ছোড়া হয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানিয়েছেন, তাদের সেনারা দ্বীপ রক্ষায় প্রস্তুত, তবে তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চান না। অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট লাইকে লক্ষ্যবস্তু করে আগ্রাসী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তাইওয়ান প্রণালীর এই উত্তজনায় বাণিজ্যিক ও বেসামরিক চলাচলে প্রভাব পড়েছে। মহড়ার কারণে ১৪টি ফ্লাইট রুটের মধ্যে ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিনমেন ও মাতসু দ্বীপের রুট ব্লক থাকায় প্রায় ৬,০০০ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়নি। তাইওয়ান স্ট্রেইট দিয়ে বছরে প্রায় ২.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়, ফলে এই উত্তেজনা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।