চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকদের জন্য এলো দুঃসংবাদ। চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রামে আর কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত নতুন সূচিতে চট্টগ্রাম ভেন্যু সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের জন্য নির্ধারিত ম্যাচগুলো এখন অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে।
আগের সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সিলেটে কয়েকটি ম্যাচ স্থগিত হওয়া এবং পরবর্তী সময়সূচি অতিরিক্ত ঠাসা হয়ে পড়ায় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চট্টগ্রাম পর্বের ম্যাচ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিলেটে নিজেদের তিনটি ম্যাচ খেলে চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটিকে আবার সিলেটেই ফিরতে হচ্ছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটে এবং ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে গত মঙ্গলবার ম্যাচ স্থগিত হওয়ায় পুরো সূচি ওলটপালট হয়ে যায়। বুধবার সাধারণ ছুটি থাকায় মঙ্গলবারের ম্যাচগুলো ৪ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে খেলা শুরু করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সম্প্রচার সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনার সুবিধা এবং বাংলাদেশ দলের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু।
তিনি বলেন, “আমরা ২৩ জানুয়ারি বিপিএল ফাইনাল করতে চাই। সিলেটে যেদিন খেলা শেষ হবে, তার পরদিনই চট্টগ্রামে গিয়ে ম্যাচ শুরু করা বাস্তবসম্মত নয়। এছাড়া ক্রিকেটারদের বিশ্রামের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে। সূচিতে এখন টানা খেলা রয়েছে, এই অবস্থায় ভ্রমণ যুক্ত করা কঠিন। আমরা চট্টগ্রামের সমর্থকদের কাছে দুঃখিত। আমরা সবসময়ই চট্টগ্রামে খেলা আয়োজনকে প্রাধান্য দিই, কারণ এখানকার সমর্থকরা ক্রিকেটের জন্য ভীষণ উন্মাদ। কিন্তু এবার নতুন সূচিতে কোনোভাবেই তা সম্ভব হচ্ছে না।”
নতুন সূচি অনুযায়ী, সিলেটে বিপিএল শেষ হবে ১২ জানুয়ারি। এরপর ১৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় শুরু হবে পরবর্তী পর্ব। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জানুয়ারি।
এখন পর্যন্ত সিলেটে ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৯ দিনে সেখানে আরও ১৮টি ম্যাচ হবে। ঢাকায় ফিরে ৬ দিনে আয়োজন করা হবে ১০টি ম্যাচ।