ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিমি জুড়ে ভয়াবহ যানজট

0
53

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ ও ধীরগতির কারণে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, পণ্যবাহী যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, যানজটের মূল কারণ হলো মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে মদনপুর ও নাঙ্গলবন্দ এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে ওভারলোড ট্রাক বিকল হয়ে পড়া। এই দুটি ট্রাক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ লেনে দাঁড়িয়ে থাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলস্বরূপ, যানজট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ও শিমরাইল এলাকা অতিক্রম করে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, বিকল ট্রাক দুটি দ্রুত সরানো সম্ভব না হওয়ায় বিঘ্ন ঘটে। এর পাশাপাশি, মেঘনা গ্রুপের বাৎসরিক অফারের কারণে সারাদেশে থেকে বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ি এই সড়কে প্রবেশ করায় যানজটের চাপ আরও তীব্র হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাক সরাতে কাজ শুরু করে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সড়ক সরু হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করতে বেশি সময় লেগে যায়।

ভোর রাত থেকে যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাসযাত্রীরা জানান, কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বেলায়েত হোসেন নামের একজন বাসযাত্রী বলেন, “৩ ঘণ্টা ধরে গাড়িতে বসে আছি। কখন যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব বুঝতে পারছি না। এই সড়কে প্রায়ই এমন অবস্থা তৈরি হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান নেই।” অনেক অফিসগামী যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিকল ট্রাকগুলো সরিয়ে ফেলার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।