গুলশানের বাসভবনে খালেদা জিয়ার মরদেহ : শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন স্বজন ও নেতাকর্মীরা

0
51

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলসহ শেষবারের মতো তার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়া হয়েছে।

সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ ফিরোজার উদ্দেশে যাত্রা করে। হাসপাতাল থেকে বাসভবন পর্যন্ত পুরো সড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

ভোর থেকেই প্রিয় নেত্রীকে শেষবার দেখার জন্য ফিরোজার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বাসভবনে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আজ বাদ জোহর দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে মরদেহ রাখা হবে। জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ জুড়ে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে জানাজায় অংশ নিতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সব দপ্তর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

দাফনকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জিয়া উদ্যান এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। দাফনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে আজ সারাদেশে এক দিনের সাধারণ ছুটি এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপিও দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, নেতা-কর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ এবং গুলশান কার্যালয় ও নয়াপল্টনে শোক বই খোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর নিউমোনিয়া ও সংক্রমণজনিত জটিলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনামলেই সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সূচনা হয়।

১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া ১৯৬০ সালে তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানীসহ সারাদেশে মানুষের ঢল নেমেছে।