কক্সবাজারে ধর্ষণের শিকার হয়ে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হৃদয় হাসান বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং–৫-এর বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসিফের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি এই জবানবন্দি দেন এবং নিজের দায় স্বীকার করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে সদর থানা পুলিশ হৃদয় হাসান বাবু (২২)কে গ্রেপ্তার করে। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় হাসান বাবুই আলোচিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলার মূলহোতা ও প্রধান আসামি।
নিহত কিশোরীর মা মনোয়ারা বেগম জানান, তারা যে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন, সেই বাড়ির মালিকের সঙ্গে বিরোধের জেরে গত ২২ ডিসেম্বর তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়। শহরের সাহিত্যকাপল্লীর বাসিন্দা হৃদয় হাসান বাবু, নায়েমসহ কয়েকজন মিলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে নায়েমের বাড়ি থেকে পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলায় রোকেয়া নামের এক নারীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস জানান, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে হৃদয় হাসান বাবু ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন নিহত কিশোরীর সহপাঠীসহ এলাকাবাসী।