সুইজারল্যান্ডের স্কি রিসোর্টে বর্ষবরণের রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৪০

0
28

নতুন বছরের শুরুতেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছে সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট শহর ক্রানস-মন্টানা। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম প্রহরে একটি নাইটক্লাবে শ্যাম্পেন বোতলে সংযুক্ত ছোট আতশবাজি বা ‘স্পার্কলার’ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৯ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভ্যালাইস অঞ্চলের অ্যাটর্নি জেনারেল বিয়াত্রিস পিলউড শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে—শ্যাম্পেন বোতলের ওপর জ্বলন্ত স্পার্কলারগুলো সিলিংয়ের খুব কাছে চলে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ‘লে কনস্টেলেশন’ নামের ওই নাইটক্লাবটি ঘটনার সময় দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে উঁচিয়ে ধরা বোতল থেকে ছিটকে পড়া আগুন সিলিংয়ে থাকা দাহ্য উপকরণে লেগে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তাজনিত গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে পানশালাটির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুমোদিত ধারণক্ষমতা এবং সিলিংয়ে ব্যবহৃত ফোমের মান যাচাই করা হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। তবে পানশালার মালিকপক্ষ দাবি করেছে, গত এক দশকে তিনবার সরকারি পরিদর্শন হলেও কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি।

পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডরিক গিসলার জানান, নিহতদের শনাক্তকরণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলমান রয়েছে। আহত ১১৯ জনের মধ্যে ১১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ জন সুইজারল্যান্ড, ১৪ জন ফ্রান্স এবং ১১ জন ইতালির নাগরিক। আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার তাহিরিস দস সান্তোসও রয়েছেন, যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ প্রায় ৫০ জনকে ইউরোপের বিভিন্ন বিশেষায়িত বার্ন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করছেন। ১৬ বছর বয়সী ইতালীয় কিশোর অ্যাচিল বারোসির সন্ধানে তার পরিবার উদ্বিগ্ন। তার খালা ফ্রান্সেসকা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা জানি না সে এখনো বেঁচে আছে কি না।’ নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় একটি বিশেষ তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রিস্টান ফিশার জানান, তার ১৭ বছর বয়সী ভাই জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েকজনকে জ্বলন্ত ভবন থেকে উদ্ধার করেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লি জেহন্ডার বলেন, আগুন লাগার পর মানুষের চিৎকার ও দগ্ধদের আর্তনাদ ছিল হৃদয়বিদারক।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামী ৯ জানুয়ারি ক্রানস-মন্টানায় বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন গোটা সুইজারল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।