হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো

0
40

অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দেওয়া ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ পুনরায় শুরু করতে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ছেড়ে আবার কারাগারে ফিরেছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে গৃহবন্দী করার আবেদন নাকচ হওয়ায় পুলিশ হেফাজতে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ব্রাসিলিয়া থেকে এএফপি জানায়, দিনের শুরুতে দেওয়া এক রায়ে বিচারকরা বোলসোনারোর আইনজীবীদের করা গৃহবন্দীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। রায়ে বলা হয়, তাঁর স্বাস্থ্যের এমন কোনো অবনতি ঘটেনি, যা গৃহবন্দী রাখার যৌক্তিকতা সৃষ্টি করে।

৭০ বছর বয়সী বোলসোনারো এক সপ্তাহের বেশি সময় ব্রাসিলিয়ার ডিএফ স্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাঁর হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং বারবার দেখা দেওয়া হেঁচকির চিকিৎসায় আরও একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে পুলিশ পাহারায় থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফেডারেল পুলিশের একটি স্থাপনায় নেওয়া হয়, যেখানে একটি ছোট কক্ষে তিনি সাজা ভোগ করছেন।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট থাকা বোলসোনারো ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক সমাবেশে পেটে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তাঁকে একাধিকবার বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বোলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, লুলাকে হত্যার পরিকল্পনাসহ ওই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ এতে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত বোলসোনারো এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘ডাইনী শিকার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত রাখতেই এ মামলা ও রায় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত নভেম্বর তাঁর কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দী ছিলেন। তবে আদালতের দৃষ্টিতে পালানোর চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত এক ঘটনায় নিজের গোড়ালিতে পরা নজরদারি ব্রেসলেটে সোল্ডারিং আয়রন ব্যবহার করার পর তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। বোলসোনারোর দাবি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত সন্দেহপ্রবণতার কারণেই তিনি ওই কাজ করেছিলেন।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ করে দেয়। তবে রক্ষণশীল-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে তাঁর সমর্থকেরা তুলনামূলক সাফল্য পেয়েছেন। তারা এমন একটি আইন পাস করেছে, যা কার্যকর হলে বোলসোনারোর সাজা কমে দুই বছরের কিছু বেশি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট লুলা ওই আইনে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও কংগ্রেস চাইলে সেই ভেটো অতিক্রম করতে পারে।

বোলসোনারোর দণ্ডাদেশ ২০২৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে। তাঁর রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ডানপন্থী এই নেতা ব্রাজিলের রক্ষণশীলদের নেতৃত্বে নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী সিনেটর পুত্র ফ্লাভিও বোলসোনারোকে সামনে এনেছেন। নির্বাচনে জয় পেতে হলে তাঁকে যেমন অন্যান্য রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করতে হবে, তেমনি ৮০ বছর বয়সী লুলাকেও, যিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।