ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদার করতে শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান

0
55

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হচ্ছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে শীঘ্রই পরিপত্র জারি করবে। ইতোমধ্যে সকল বাহিনী প্রধানদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব হেডকোয়ার্টার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানের মূল লক্ষ্য তিনটি—
১. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং যেগুলো উদ্ধার সম্ভব নয় সেগুলো অপকর্মে ব্যবহার না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।
২. চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।
৩. নির্বাচনকেন্দ্রিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধিতে বড় ধরনের ব্যত্যয় রোধ করা, যেখানে ছোটখাটো ব্যত্যয় দেখভাল করবে সংশ্লিষ্ট রুটিন কমিটি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে কমিশনার বলেন, ক্যাম্পগুলো সিল করতে হবে এবং স্থল সীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে দুষ্কৃতিকারীরা এসব এলাকা ব্যবহার করতে না পারে।

সভায় কক্সবাজার জেলার নির্বাচনের কয়েকটি চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়। জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপ উপজেলা। এখানে ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি মালামাল পরিবহন প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মহেশখালীর দুর্গম এলাকা ও ধলঘাটা ইউনিয়ন ও সোনাদিয়ায় আগাম প্রস্তুতি জরুরি।

টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনি মালামাল পরিবহনের জন্য কোস্টগার্ডের বিশেষ জাহাজ প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও মালামাল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ১৪–১৫ লাখ ভিনদেশি শরণার্থী বসবাস করছে। তাই ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। কক্সবাজারের পর্যটন নগরী হওয়ায় হোটেল-মোটেল পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না হলে বহিরাগতদের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা কঠিন হবে।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল নিয়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তা হাততালি দিয়েছে এমন অভিযোগকে অবান্তর আখ্যা দেন কমিশনার। তিনি জানান, প্রার্থী আইনজীবীর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারতেন, কিন্তু তা হয়নি। আপিলের সুযোগ এখনও রয়েছে।

কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, যৌথবাহিনী আজ রাত থেকেই একযোগে সারা দেশে অপরাধ নির্মূলে অভিযান শুরু করবে। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।