ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরো ‘গ্রেপ্তার’ দাবি ঘিরে ওয়াশিংটনে তীব্র বিতর্ক

0
42

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথিত ‘গ্রেপ্তার’ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটায় মার্কিন রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ভেনেজুয়েলা ও এর নেতার বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে এবং কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি আরেকটি অপ্রয়োজনীয় বিদেশি সংঘাতের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, উসকানি ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় বোমা হামলা এবং প্রেসিডেন্টকে অপহরণ আন্তর্জাতিক আইন ও সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণ বিদেশে আরেকটি সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধ চায় না। সিনেটর অ্যান্ডি কিম অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগের এক সিনেট ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করেছেন। তার ভাষায়, প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়িয়ে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়েছে, কারণ জনগণ নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি প্রত্যাখ্যান করে।

কংগ্রেসওম্যান বেটি ম্যাককলাম এই হামলাকে স্পষ্টতই অবৈধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নয় এবং কংগ্রেস এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়নি। একই সুরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো বলেন, এই যুদ্ধ অবৈধ এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভর্নও কংগ্রেসের নজরদারির অভাব তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, স্বাস্থ্যসেবার জন্য অর্থের অভাব দেখানো হলেও যুদ্ধের জন্য কেন সীমাহীন অর্থ বরাদ্দ থাকে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন ভেনেজুয়েলায় হামলাকে আমেরিকান জীবন রক্ষার জন্য একটি সিদ্ধান্তমূলক ও ন্যায্য অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও তাকে অবহিত করেছেন যে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রশাসনের অবস্থান জোরালোভাবে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযান প্রমাণ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার কথা কাজে পরিণত করেন। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে ভ্যান্স সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নার্কো-সন্ত্রাসবাদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং কারাকাসের প্রাসাদে থাকলেও কেউ মাদক পাচারের অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে পারে না।

হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি এবং দেশটির তেল শিল্প জাতীয়করণকে তারা ‘চুরি’ হিসেবে আখ্যা দেন। এই সব বক্তব্য ও পদক্ষেপ মিলিয়ে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।