মাইলস্টোনের উত্তরা–দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের আবেদন নিহত–আহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের

0
31

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা–দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিতসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের পরিবার। সম্প্রতি আটজন নিহত শিক্ষার্থী এবং একজন আহত শিক্ষার্থীর মা–বাবা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন নিহত রাইসা মনির পিতা মো. সাহাবুল শেখ, আহত কাফি আহমেদের পিতা মেরাজ আহমেদ, নিহত নুসরাত জাহান আনিকার পিতা মো. আবুল হোসেন, নিহত মারিয়াম উম্মে আফিয়ার পিতা আ. কাদির, নিহত মাহিত হাসান আরিয়ানের মাতা মনিকা আক্তার, নিহত ওয়াকিয়া ফেরদৌস নিধির পিতা মো. ফারুক হোসেন, নিহত বোরহানউদ্দিন বাপ্পির পিতা মোহাম্মদ আবু শাহীন, নিহত ফাতেমা আক্তারের মাতা রূপা খানম এবং নিহত জোনায়েদ হাসানের পিতা মো. আসলাম।

এই আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের কাছে। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা–দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এতে অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হন।

ঘটনার কারণ, দায়–দায়িত্ব ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লা খানকে সভাপতি করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কয়েকজন ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেও কোনো কপি দেওয়া হয়নি।

আবেদনকারীদের দাবি, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনটি রাজউকের নীতিমালা কিংবা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভবন নির্মাণের ফলে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে তারা মনে করেন।

কমিশনের সুপারিশে বর্তমান প্রধান ক্যাম্পাসকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঢাকার জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা, নিহত ও আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে।

পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ ও সরবরাহ, ভবন নির্মাণে অনুমোদন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত নতুন ভর্তি স্থগিতসহ সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ এবং দগ্ধ ও আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরিকল্পনা জানানোর দাবি জানানো হয়েছে।

নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের পরিবার জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর, যথাযথ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।