মার্কিন ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ, ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর

0
45

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় দেশটির নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অতিরিক্ত আর্থিক শর্তের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশসহ বর্তমানে মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তাদের ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ভিসা ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হবে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে, তবে কনস্যুলার অফিসার স্পষ্ট নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টে করার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে কিংবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে এই জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে—যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে—সে ক্ষেত্রে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।

এ নিয়মের আওতায় ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত পথের বাইরে অন্য কোনো রুট ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে এবং এতে অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ছাড়াও আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। দেশভেদে ভিসা বন্ড কার্যকরের তারিখও ভিন্ন ভিন্ন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা ভিসাধারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়। যদিও অনেক দেশ ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চায়, ফেরতযোগ্য জামানতের মাধ্যমে ভিসা দেওয়ার এই ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে খুব বেশি প্রচলিত নয়।