ঋণের বদলে সৌদি আরবকে যুদ্ধবিমান দিচ্ছে পাকিস্তান: প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন মোড়

0
28

সৌদি আরবের কাছ থেকে নেওয়া বিলিয়ন ডলারের ঋণ শোধের বিকল্প হিসেবে অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ (JF-17) যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে বিদ্যমান প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই নতুন সমীকরণ সামনে এল।

এই সম্ভাব্য চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য প্রায় চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণের বিপরীতে সমন্বয় করা হবে এবং বাকি দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক আধিপত্য সুসংহত করতে সৌদি আরব এই যুদ্ধবিমানগুলো সংগ্রহে বিশেষ আগ্রহী।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। পাকিস্তান যখনই আর্থিক সংকটে পড়েছে, সৌদি আরব বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও জ্বালানি সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। বিনিময়ে পাকিস্তানের সুপ্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সময়ে ভূমিকা রেখেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান তাদের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতেও বেশ সাফল্য দেখাচ্ছে, যার বড় উদাহরণ লিবিয়ার কাছে ৪ বিলিয়ন ডলারের জেএফ-১৭ বিক্রির চুক্তি।

ভারতের সাথে আকাশপথে লড়াইয়ে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে আরব দেশগুলোর কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে পাকিস্তানের এই চীনা প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব বর্তমানে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, রিয়াদ যদি চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার শুরু করে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত বা জটিল হতে পারে। সব মিলিয়ে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কেবল সামরিক নয়, বরং একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখেও পড়তে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর