ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসগুলো থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ‘সীমিত’ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিবিসি বাংলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসগুলো এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এর আগে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফলে বর্তমানে কেবল গুয়াহাটির অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনারের দফতর থেকে ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি না করা হলেও বুধবার থেকেই পর্যটক ভিসা প্রদানের ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য জরুরি ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং ভারতে বাংলাদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের মিশনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) দেড় শতাধিক নেতাকর্মী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়ান। এই ঘটনার পরপরই মুম্বাই উপহাইকমিশন থেকে ভিসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, যেসব মিশনে নিরাপত্তার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে আপাতত ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, এর আগে ভারতও দীর্ঘ সময় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল এবং বর্তমানে তারা কেবল মেডিকেল ও অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো ভিসা ইস্যু করছে না।
দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর ব্যাপকভাবে পড়ছে।