দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবানন সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এসব হামলা চালানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, শুক্রবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইক্লিম আল-তুফ্ফাহ অঞ্চলের কাফর ফিলা ও আইন কানা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র হামলা চালায়। পাশাপাশি জেজিন জেলার রিহান ও সাজদের মধ্যবর্তী এলাকাতেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের একাধিক স্থানে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অস্ত্রগুদাম ও হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ব্যবহৃত স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল নিয়মিত লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরায়েল সাধারণত এসব হামলাকে হিজবুল্লাহর অবস্থান ও সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো বলে দাবি করে। একই সঙ্গে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি কৌশলগত স্থানে এখনো সেনা মোতায়েন করে রেখেছে এবং হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ যদি লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সংগঠনটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল।
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সীমান্তে এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলার পর এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ওই সংঘাতে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার আহত হন। চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আংশিক প্রত্যাহার হয়েছে এবং পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে তাদের উপস্থিতি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেবানন সেনাবাহিনী জানায়, তারা লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার প্রথম ধাপের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এই এলাকা ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। সেনাবাহিনীর লক্ষ্য, ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণ করা।
তবে ইসরায়েল বলেছে, এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও যথেষ্ট নয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা উৎসাহজনক শুরু হলেও তা অনেকটাই অপর্যাপ্ত।
লেবাননের সরকারি গণমাধ্যম জানায়, বৃহস্পতিবার সাইদা শহরের কাছে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সেখানে হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর উত্তরে যোদ্ধা সরিয়ে নিতে এবং দক্ষিণাঞ্চলে তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে সংগঠনটি দেশের অন্য অংশে অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লেবানন কর্তৃপক্ষের ঘোষণাকে উৎসাহজনক বলে অভিহিত করে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সব পক্ষকে কঠোরভাবে মানতে হবে। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জানান, এ লক্ষ্য পূরণে শিগগিরই প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে।