যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

0
13

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা ও প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর যদি ইরান গুলি চালায় বা হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’, অর্থাৎ সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা ইরান সরকারের পুরোনো অভ্যাস। যদি তারা আবার এমন পথ বেছে নেয়, তাহলে আমেরিকা এগিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং তাদের লক্ষ্য স্থির করা আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ব্যবহৃত ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ শব্দগুচ্ছ সামরিক হস্তক্ষেপের একটি প্রচ্ছন্ন হুমকির ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরে দুইজন এবং পার্শ্ববর্তী লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে বিক্ষোভ দমনের সময় বিপ্লবী গার্ড সংশ্লিষ্ট ‘বাসিজ’ বাহিনীর ২১ বছর বয়সী এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে।

গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতনের প্রতিবাদে ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতেও স্লোগান দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে ইরান। তেহরান একে একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।