শেখ হাসিনা ও কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আবেদন শুনানি চলতি সপ্তাহে

0
32

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা প্রসিকিউশনের আবেদন দুই-একদিনের মধ্যে শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এরই মধ্যে আপিলের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের একটি অভিযোগে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ২৭ নভেম্বরই সাজা বাড়ানোর বিষয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একটি অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি একটি অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের নয় দিন পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

মামলায় প্রসিকিউশন তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনলেও ট্রাইব্যুনাল রায়ে দুটি অভিযোগে ছয়টি ঘটনাকে বিবেচনায় নেয়। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য, একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়ার হুমকি ও নির্দেশ এবং এসবের ফলশ্রুতিতে রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপের মাধ্যমে ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত এবং হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এর ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং একই দিনে আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। উভয় অভিযোগে সাবেক আইজিপি মামুন পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।