হাদি হত্যার বিচার দাবিতে পঞ্চগড়ে অবরোধ, সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ

0
31

পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। রোববার বিকেলে জেলা শহরের শেরে বাংলা পার্ক মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে হাদি হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীরা। পরে তারা পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

বিকেল ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান বক্তব্য দেন। তার পর সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বক্তব্যের শেষ দিকে আকস্মিকভাবে সেনা সদস্যরা এসে মহাসড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে একপর্যায়ে সেনা সদস্যদের লাঠির আঘাতে অন্তত ২৩ জন আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

আহতদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি, সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ, মাহফুজুর রহমানসহ অনেকে রয়েছেন। তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল। আমরা কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছি, ঠিক সেই সময় আকস্মিক সেনা সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা ও লাঠিচার্জ করে। টেনে হিঁচড়ে সড়ক থেকে বাইরে নেয়। এ সময় আমাদের ২০-২৫ জন আহত হন। আমিসহ ২৩ জন হাসপাতালে আছি। আমরা এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর বলেন, ‘২৩–২৫ জনের মতো আহত রোগী এসেছেন। এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা শক্ত কিছুর আঘাত পেয়েছেন। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি, কয়েকজনকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।’

অন্যদিকে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, ‘দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় আমাদের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সড়কের এক পাশে সরে যেতে বলেন। এ সময় তারা উত্তেজিত হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরিয়ে দেওয়ার সময় কারও কারও গায়ে লাঠি লেগে থাকতে পারে, তবে আমাদের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জ করা হয়নি।’

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসার কথা হয়েছে, তারা কথা বলতে সম্মত হয়েছেন।’

দুই ঘণ্টা উত্তেজনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে।