‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে কোনো আইনি বাধা নেই, ইইউ প্রতিনিধিকে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

0
23

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের স্বপক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং রিফর্ম এজেন্ডা বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করছে এবং ক্যাম্পেইন করবে। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে এবং তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ায় কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতও মনে করেন, এই গণভোটের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের জনসমর্থন ও বৈধতা নিশ্চিত হবে।

ড. ইউনূস ইইউ প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ। তিনি একে একটি ‘উৎসবমুখর নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে।”

নির্বাচনী নিরাপত্তায় এবার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে। এ ছাড়া সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকা থেকেই প্রতিটি উপজেলা ও জেলার পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং সেনাবাহিনী ‘র‍্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার বা ‘ডিসইনফরমেশন’ একটি বড় উদ্বেগের কারণ। এ ছাড়া পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন প্রধান জানিয়েছেন, তাদের পর্যবেক্ষক দল এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তারা বড় রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবে এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। ইইউ প্রতিনিধি দল পাঠানোকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি বা ‘এনডোর্সমেন্ট’ হিসেবে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রেস সচিব আরও স্পষ্ট করেন যে, এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ বা দলটির বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে বলেও বৈঠকে জানানো