বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, দেওয়া হবে মৃত্যুদণ্ড

0
24

ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রবল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমাতে কঠোরতম অবস্থান নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামি সরকার। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনতাকে ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত, তাদের একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ বলা হচ্ছে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

ইরানের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নেয়, তবে তাদের সব সদস্যকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে।

বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক সংকট:
ইরানে চলমান এই অস্থিরতার প্রধান কারণ ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা। বছরের পর বছর মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে মিলছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল। আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে এটি ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব কটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজপথ দখল করে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন:
আন্দোলন দমাতে তেহরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং শক্তিশালী আভিজাত বাহিনী ‘ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কেও রাজপথে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের এই কঠোর অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে সরকার অনড় অবস্থানে থেকে বিক্ষোভকারীদের ‘বিদ্রোহী’ ও ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সূত্র: এএফপি