মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরুর নির্দেশ

0
37

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আজ আদেশের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ৬ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি আসামিদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষ আরও দাবি করে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয়। ভয়েস রেকর্ডটি বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করার আবেদন জানানো হলেও গত ৪ জানুয়ারি সেই আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত ছিলেন। তাদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন। এ সময় নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

প্রসিকিউশন আরও অভিযোগ করে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান ও আনিসুল সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়, যেখানে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ কথা বলা হয়। ফোনালাপে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কারফিউ জারি করে সেদিন রাতেই আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

গত ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানান। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয় এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।