সিআইডিকে হাদি হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

0
44

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ন্যস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। পরে বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল নারাজি আবেদনের শুনানিতে বলেন, চার্জশিটে মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়নি এবং ঘটনার পর মূল আসামিদের ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি এবং দায়সারাভাবে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাদি সব সময় ইনসাফ চেয়েছেন। তাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধীদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে এবং নিরপরাধ কেউ যেন সাজা না পায়, সে জন্য ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও নেপথ্যের সংশ্লিষ্টতা বের করতে মামলাটি পুনরায় তদন্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আদেশের বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরে তদন্ত সিআইডিকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি মামলার চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওইদিন আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতার জন্য বাদীপক্ষে তিনজন আইনজীবী নিয়োগের আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষ দুই দিন সময় চাইলে শুনানি শেষে আজকের দিন শুনানির জন্য ধার্য করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ফয়সাল ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরীফ ওসমান হাদি হামলার শিকার হন। মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।