ইসিতে আপিল শুনানির বিরতিতে হট্টগোল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

0
24

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আপিল শুনানিকালে অডিটোরিয়ামে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে শুনানি চলাকালীন বিরতির সময়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, শনিবার মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী আফরোজা খানমের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে দায়ের করা আপিলের শুনানি চলছিল। শুনানির এক পর্যায়ে দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে কমিশন সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবীদের কাছে ব্যাখ্যা চায়। দীর্ঘ সময় ব্যাখ্যা গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বাধীন কমিশন দুপুরের খাবারের জন্য আধাঘণ্টার বিরতি দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন।

কমিশন কক্ষ ত্যাগের পরপরই মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষে ও বিপক্ষের আইনজীবীরা জড়ো হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

এ সময় সেখানে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি মিন্টুর আচরণের প্রতিবাদ জানান—এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপস্থিত আইনজীবীরা মিন্টুকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে বিশৃঙ্খলা থামান।

বিরতি শেষে শুনানি পুনরায় শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিন্টু তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং বল প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি কমিশনের কাছে ‘রুলিং’ও দাবি করেন। একই সময়ে এক আইনজীবী কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে তার মক্কেলকে মারধরের অভিযোগ তোলেন।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়—এ প্রত্যাশা করেন তিনি। পাশাপাশি সংক্ষুব্ধ পক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ‘নির্বাচনি তদন্ত কমিটি’র কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন কমিশনার।