ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া রোববার (১৮ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ চূড়ান্ত খসড়া ক্যাবিনেট ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত সংগ্রহ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করা হয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী একটি কাঠামো নির্ধারণই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মূল লক্ষ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সকলের যৌক্তিক প্রত্যাশা ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়েই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সকলের ধৈর্যশীল সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই এই জটিল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ধারাবাহিক অগ্রগতির তথ্য নিয়মিতভাবে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মৌলিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার ধাপে ধাপে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। যেহেতু অধ্যাদেশটি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সেহেতু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ধৈর্যের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।