মোহাম্মদপুর হত্যার মামলায় তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

0
46

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশ দেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলায় তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা নৃশংসতা চালানো হয়। তদন্তের ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থা ২৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আজ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রসিকিউশনের হাতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং ৫০ জন সাক্ষী আছেন।

আসামিদের মধ্যে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।

মামলায় বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।