আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচার সমন্বয় কমিটির প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে অভাবনীয় স্খলন ঘটেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিচারালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এই অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, জনমতের তোয়াক্কা না করে অতীতে মাত্র কয়েক মিনিটে সংবিধান সংশোধন করার ফলেই দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের জন্য গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে।
শেখ বশিরউদ্দীন তার বক্তব্যে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেন যেখানে একজন নাগরিকের পরিচয় তার বংশ বা প্রভাবের বদলে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। শহীদ আনাস, আবরার ফাহাদ, মুগ্ধ ও হাদিদের মতো দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশ এমন এক নেতৃত্ব চায় যেখানে মুক্তচিন্তার মেধাবী তরুণরা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে।
গণভোটকে কেন্দ্র করে চলমান অপপ্রচার নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। সংবিধানে ধর্মীয় বিশ্বাস বা ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ পড়ার মতো গুজবগুলোকে তিনি ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বা ‘বোগাস’ বলে অভিহিত করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে এসব বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে সক্রিয়ভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশের ডিআইজি এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট দেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে।