ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ইরানের এই বিক্ষোভকে জনগণের “স্বাধীনতার সংগ্রাম” বলে অভিহিত করেছেন।
রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় গিদিওন সার বলেন, “আমরা ইরানি জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামে সমর্থন জানাই এবং তাদের সাফল্য কামনা করি। তারা স্বাধীনতার যোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।”
ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ইসরাইলের মূল সমস্যা ইরানি জনগণ নয়, বরং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা। তাঁর ভাষায়, “ইরানি শাসনব্যবস্থা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক, যা শুধু আমাদের নয়—পুরো অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি।”
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরাইলের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, “এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদার করছেন এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত থাকব।”
অন্যদিকে ইরান বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছে।
এর আগে রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ পরিবহন কেন্দ্রগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”
উল্লেখ্য, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সূচনা হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ থেকে। তবে দ্রুতই তা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিস্তৃত আন্দোলনে রূপ নেয়। —এএফপি