সংবাদ প্রকাশের পর বন্ধ হলো রাতের আঁধারে সড়ক ও জনপথের মাটি কাটা

0
39

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ক্যানেল থেকে ভেকু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর মাটি কাটা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ১৮ জানুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবে “শাহজাদপুরে রাতের অন্ধকারে সড়ক ও জনপথের মাটি শতশত ট্রাকে যাচ্ছে ইটভাটায়!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওই রাতেই প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুশফিকুর রহমান জানান, সংবাদ প্রকাশের পরপরই রাতে অভিযান চালানো হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “পরিদর্শনে নিশ্চিত হওয়া গেছে জায়গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের এবং সেখানে অবৈধভাবে মাটি কাটা হয়েছে। আমরা এলাকাটি নজরদারিতে রেখেছি, অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বিন্নাদাইর মহাসড়কের নিচে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ক্যানেলে ভেকু মেশিন বসিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছিল। প্রতিদিন প্রায় ২৫–৩০টি ড্রাম ট্রাকে করে মাটি নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা এলাকার বাবলুর ইটভাটায় বিক্রি করা হতো।

এ সময় মাটির পয়েন্টের ম্যানেজার পরিচয়দানকারী আকাশ দাবি করেন, শাহজাদপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটছেন। একই দাবি করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নিজেও। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে নদী খননের বালু কাটার অনুমতি পেয়েছেন।

তবে এসব দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (পুর) মো. শাহীন রেজা। তিনি মুঠোফোনে জানান, “আমরা কোনো ক্যানেলের মাটি কাটার অনুমতি দেইনি। ওই এলাকায় একটি বালুর ডাইক নিলাম দেওয়া হয়েছে, সেটি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ আমাদের কাগজ দেখিয়ে সড়ক ও জনপথের মাটি কাটে, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, “জায়গাটি আমাদের অধিভুক্ত। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলা করা হবে।”