আমরা দেশের স্বার্থে গণভোটকে ‘হ্যাঁ’ বলবো: রিজওয়ানা হাসান

0
38

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “আমরা এমন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না, যেখানে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় বা জনগণের মুখোমুখি হয়ে সৎ উত্তর দেওয়ার সাহস থাকে না। কাজেই ব্যক্তি ও দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলবো।”

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনী স্কুল মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ভোটের রিকশা’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে এবং জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করবে। তিনি বলেন, “আপনি যখন কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন, তখন কি তাদের সবকিছুই পছন্দ হয়? না। তবু আপনি ভাবেন—৮০ শতাংশ ঠিক আছে, ২০ শতাংশ নয়। গণভোটের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রস্তাবগুলোকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে হবে।”

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১১ সালে বিচার বিভাগের ‘কাঁধে বন্দুক রেখে’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল। “আপনি যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন, তাহলে বিচার বিভাগের ওপর আর এভাবে চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। চার মিনিটে সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়ন—এটা আমরা চাই না,” বলেন তিনি।

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। “আমরা চাই না—অমুক সচিব আমাদের লোক, তমুক সচিব তাদের লোক—এমন ধারণা থাকুক। প্রশাসন দলনিরপেক্ষ হওয়াই রাষ্ট্রের স্বার্থ।”

গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রহসনের নির্বাচন। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোটাররা অংশ নেয়নি। ১৮ বছরের একটি প্রজন্ম প্রকৃত নির্বাচন দেখেনি। এই তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।”

গণভোটকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আপনি যেকোনো দলের আদর্শে বিশ্বাস করতে পারেন। কিন্তু এই গণভোট কোনো দলীয় প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। আপনি যদি জাতীয় স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ বলেন, দেশ জিতবে। আর দেশ জিতলে আমরা সবাই জিতে যাব।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।