নির্বাচনি প্রচারণা শুরু কাল, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

0
43

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই প্রচার চালাতে পারবেন। তবে আচরণবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইসির।

অনলাইনে প্রচারণায় সাতটি নির্দেশনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে হলে প্রার্থীদের সাতটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল যে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাবে, সেগুলোর নাম, আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

  • অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • ঘৃণামূলক বক্তব্য, বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া তথ্য, ছবি বিকৃতি কিংবা ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।

  • প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, ঘৃণামূলক কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ নিষিদ্ধ।

  • ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোটার প্রভাবিত করা যাবে না।

  • কোনো তথ্য বা পোস্ট শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে; গুজব ছড়ানো যাবে না।

  • কারও সুনাম নষ্ট বা চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা বা প্রচার করা যাবে না—এ ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ।

অফলাইনে প্রচারণায় বিধিনিষেধ

অফলাইন প্রচারণার ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম—

  • নির্বাচন উপলক্ষে বিদেশে জনসভা, পথসভা বা কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না।

  • পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন; দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট।

  • নির্বাচনের দিন ও প্রচারকালে ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না।

  • ভোটার স্লিপ বিতরণ করা গেলেও তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।

  • কেবল ডিজিটাল বিলবোর্ডে সীমিত আলো ব্যবহার করা যাবে; আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ।

  • ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে পলিথিন নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ।

  • একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানার অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

এছাড়া সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

শাস্তির বিধান

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং রাজনৈতিক দলের জন্যও দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৩০০টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি অনিয়ম অনুসন্ধান ও সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মাঠে থাকবে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আজ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে অফিসিয়ালি প্রচারণা শুরু হবে। প্রতীক পাওয়ার পর কেউ যদি আচরণবিধি না মানে, তাহলে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্যবস্থা নেবেন। আইনি সব প্রস্তুতি আমাদের আছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। আশা করি, সব দল সংযত আচরণ বজায় রাখবে এবং কোনো সংঘাত ছাড়াই প্রচারণা চলবে।”