এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে যে, গত বছরের ১৪ জুলাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উসকানি প্রদান করেন। এর ফলে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও তৎকালীন শাসক দলের অঙ্গসংগঠনগুলো সশস্ত্র হামলা চালায়। এছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা দেওয়া এবং রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জনকে হত্যার সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উত্তরা এলাকায় ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় সহায়তা করার বিষয়টিও প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, এসব ঘটনার সাথে জয় বা পলকের কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা এই মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ১১ জানুয়ারি আদালতে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য যে, এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের জন্য ইতিপূর্বে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, কারাবন্দি জুনাইদ আহমেদ পলককে গত ১০ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আজকের এই আদেশের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে এই দুই হাই-প্রোফাইল আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে কি না।