করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ৬১

0
35

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং আরও ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

গত ১৭ জানুয়ারি, শনিবার, গুল প্লাজার বেসমেন্টে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা জানিয়েছেন, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলার ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামক একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, এই ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬১ জনে পৌঁছেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে নির্মিত এই পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সটিতে ১,২০০ টিরও বেশি দোকান রয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডে এর অধিকাংশই ভস্মীভূত হয়েছে। এটি করাচির ইতিহাসে অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে, হতাহত এবং নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, শপিং কমপ্লেক্সের ২৬টি গেটের মধ্যে মাত্র দুটি চলাচলের জন্য খোলা থাকত এবং আগুন লাগার সময় বাকি গেটগুলো বন্ধ থাকায় বহু মানুষ আটকা পড়েছিলেন। এছাড়াও, মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোও অকার্যকর ছিল বলে জানা গেছে।

উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে আগুন থেকে বাঁচতে দোকানের শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

করাচির পুলিশপ্রধান এবং কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে এবং তারা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে করাচি সহ পুরো পাকিস্তানে। উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : এএফপি