কারওয়ান বাজারে আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে মুছাব্বির হত্যা: ডিবি

0
27

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেছেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ৮ থেকে ৯টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দিলীপ ওরফে বিনাসের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে।

তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানা এলাকার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলিসহ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা হয়েছে।

হত্যার কারণ সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, কারওয়ান বাজার একটি বড় ব্যবসা ও কাঁচাবাজার এলাকা। সেখানে দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই; বিভিন্ন নামে তারা চাঁদা তোলে।

তিনি আরও বলেন, বিনাস নামে একজন আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার নির্দেশেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিষয়ে ডিবি প্রধান বলেন, তারা ভাড়াটে হলেও নিজেরাও কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দৌড়ে পালাচ্ছেন—দুজনেই গুলি চালিয়েছে।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন—এই সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা থাকতে পারে। চলতি মাসে সর্বাধিক সংখ্যক, প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, ১১ জানুয়ারি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদির (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ রহিমকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

ডিবি প্রধান বলেন, গ্রেপ্তারদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত। চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই; তারা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।