কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুদিন পর শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঢাকা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমানউল্লাহ আমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জগন্নাথপুর এলাকায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দলীয় কাজ শেষ করে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তাঁর পেটের ডান পাশে লাগে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় আজ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. সাইফুল আলম বিএনপি নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণার ঠিক শুরুতে দলীয় এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার এমন মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। হাসান মোল্লাকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।