পাকিস্তানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আদনান জানান, অনুষ্ঠানের সময় শান্তি কমিটির সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনে এই বোমা হামলা ঘটে।
এই শান্তি কমিটিগুলো স্থানীয় বাসিন্দা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে গঠিত এবং আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইসলামাবাদের সমর্থন পেয়ে থাকে।
শুক্রবার তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদনান আরও জানান, হামলায় আহতদের মধ্যে চারজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
এই আত্মঘাতী হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কড়াকড়ি শীতের মধ্যেও এই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর পড়ছে পাকিস্তানি তালেবান, যাদের তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামেও পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি দেশজুড়ে বহু হামলা চালিয়েছে।
টিটিপি আফগান সীমান্তের দুই পাশেই সক্রিয় এবং তারা শান্তি কমিটির সদস্যদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। টিটিপির ঘোষিত লক্ষ্য হলো পাকিস্তানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বাতিল করে তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যায় কঠোর ইসলামি আইন চালু করা।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান ছাড়ার পর দেশটিতে আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর থেকেই টিটিপি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর অনেক টিটিপি নেতা ও যোদ্ধা আফগানিস্তানে আশ্রয় পেয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগান তালেবান পাকিস্তানি এই গোষ্ঠীকে আফগানিস্তান থেকে হামলার পরিকল্পনা করতে দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, টিটিপির কার্যক্রম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।