যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার দ্বিতীয় দিন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন দফার হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও ২৩ জন আহত হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, এই ‘নৃশংস’ হামলা শুধু ইউক্রেনের জনগণের ওপর নয়, শান্তি আলোচনার টেবিলের ওপরও আঘাত হেনেছে।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসেছেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সূত্র জানিয়েছে, কিছু অগ্রগতি হলেও ভূখণ্ড ইস্যুতে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, সেখানে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয় হাজার ভবন গরমের ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ জানান, শনিবার ভোরে শহরে টানা হামলায় ১৯ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলায় একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবুধাবিতে তিন পক্ষের আলোচনার দ্বিতীয় দিনে সিবিহা বলেন, রাতভর চালানো এই ‘বর্বর’ হামলা প্রমাণ করে, ‘পুতিনের জায়গা শান্তির টেবিলে নয়, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায়।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, যা বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে কাজ করে বলে বলা হয়। তবে পুতিন এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি।
ইউক্রেনে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ার মধ্যে এসব হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাশিয়ানদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো।’
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের ডনবাসের বড় অংশ দখলে রেখেছে। মস্কো আরও বিস্তৃত ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার দাবি জানালেও কিয়েভ তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আলোচনার প্রথম দিন শেষে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বৈঠকে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধের কাঠামো এবং সম্মানজনক ও টেকসই শান্তির দিকে এগোনোর জন্য ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।