চট্টগ্রামে তারেক রহমানের সমাবেশ, জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

0
42

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই কেউ দলবেঁধে, কেউ আবার আগের রাত থেকেই মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের অংশে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতির সংখ্যাও বাড়ছে। আগেভাগে আসা নেতাকর্মীরা জানান, প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা সকাল সকাল সমাবেশস্থলে এসেছেন।

সাতকানিয়া থেকে আসা বিএনপি কর্মী আমির হোসেন বলেন, বহু বছর ধরে তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। আজ সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে বলে জানান তিনি। দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, তারা অনেকেই রাত থেকেই সমাবেশের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে সকালে অনুষ্ঠান শেষ করেই ফিরে যাওয়া যায়।

দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানেই রাতযাপন করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তারেক রহমান তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এদিকে মহাসমাবেশ ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকা তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোনের আওতায়।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।