জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের ১৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল।
অর্থপাচার ও জালিয়াতির কৌশল দুদকের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ব্যাক টু ব্যাক এলসি’ (BB LC) ব্যবহার করে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হয়েছিল, সেগুলোর মালিক সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমান। মূলত নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ লেনদেনের নামে একটি কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি করে তারা সাধারণ মানুষের আমানত লুট করেছেন।
স্কাইনেট অ্যাপারেলস ও ঋণের অপব্যবহার মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ‘স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামক একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক্সপার্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) সুবিধাসহ বিশাল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি দেখালেও সেই অর্থ দেশে আনা হয়নি। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আইনি কার্যক্রম ও তদন্তের লক্ষ্য আদালতে শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন না করে শুধু নথিপত্র অনুযায়ী আদেশের অনুরোধ জানান। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাচারকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে সালমান এফ রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। গত ৩ নভেম্বর এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুব মোর্শেদ।