আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেন বা ভোট বেচাকেনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে প্রতিটি নির্বাচনি আসনে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম নিবিড় নজরদারিতে রাখা হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
অস্বাভাবিক লেনদেনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ইসি সানাউল্লাহ জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসে, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটের ঠিক আগে বড় অঙ্কের ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে কোনো প্রার্থী যেন জনমত প্রভাবিত করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এই নজরদারির মূল লক্ষ্য।
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা—এই তিনটি মৌলিক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ছয়টি কমিটি কাজ করছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটারদের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা আগামীর বাংলাদেশ গঠনে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।