রাশিয়ার গ্যাস ও জ্বালানি আমদানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের, নতুন আইন পাস

0
41

রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার ব্রাসেলসে ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মতিতে একটি নতুন আইন পাস করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে পাইপলাইন গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হলো। ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনাই এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

নতুন এই প্রবিধান অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর থেকেই নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বিশ্ববাজার ও জ্বালানির দরে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্য বিদ্যমান চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা রূপান্তরকালীন সময় রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরু থেকে এলএনজি এবং একই বছরের শরৎকাল থেকে পাইপলাইন গ্যাসের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সময়ের পর থেকে গ্যাস আমদানির আগে তার উৎপত্তিস্থল বা কোন দেশে উৎপাদিত হয়েছে, তা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে সদস্য দেশগুলোকে।

আইন অমান্যকারীদের জন্য রাখা হয়েছে বিপুল অংকের জরিমানার বিধান। নিয়ম ভঙ্গ করলে কোনো ব্যক্তিকে অন্তত ২৫ লাখ ইউরো এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্তত ৪ কোটি ইউরো বা তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সাড়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে প্রতিটি সদস্য দেশকে বিকল্প উৎসের জাতীয় পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে কোনো দেশে জরুরি জ্বালানি সংকট দেখা দিলে কমিশন সর্বোচ্চ চার সপ্তাহের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে ইউরোপ নিজের জ্বালানি সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল। পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৩ শতাংশের নিচে নামলেও, ২০২৫ সালে ইউরোপের মোট গ্যাস আমদানির ১৩ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে, যার বাজারমূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এই বিপুল অংকের বাণিজ্য বন্ধ করে ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারকে আরও স্বায়ত্তশাসিত ও স্থিতিশীল করতেই এই কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।