ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার অনুষ্ঠানের মঞ্চে চেয়ার দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

0
33

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনের সারির চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও বহু চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠান শুরুর আগমুহূর্তে এ সংঘর্ষ হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে উপস্থিত হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রার্থীরা মঞ্চে বসার পর কিছু কর্মী-সমর্থকের মধ্যে সামনের সারির চেয়ারে বসা নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভেঙে ফেলা হয় এবং বিক্ষুব্ধ লোকজন কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকেরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, জামায়াতের কিছু কর্মী-সমর্থক পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা করেছে, যাতে তাদের দলের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, তবে বসাকে কেন্দ্র করে ‘একটু ঝামেলা’ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।