ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ইইউ

0
56

বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) ব্রাসেলসে ইইউ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবারের নিষেধাজ্ঞায় মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

১. মানবাধিকার লঙ্ঘন: সম্প্রতি ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের দায়ে প্রায় ২০ জন ইরানি কর্মকর্তা ও ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২. সামরিক প্রযুক্তি: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহারের জন্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে যুক্ত ১০টি ইরানি কোম্পানিকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ইরানে রপ্তানির ওপরও নতুন বিধিনিষেধ আসতে পারে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিয়ে বিতর্ক: ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কিছু দেশ এই পদক্ষেপে এখনই সায় দেয়নি। তাদের আশঙ্কা, এমন সিদ্ধান্ত নিলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ফলে আজকের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে কাজা কালাস বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করার ইতিহাস ইরানের দীর্ঘদিনের, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য পদক্ষেপের অপেক্ষায় ইউরোপীয় নেতারা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ইইউ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পারমাণবিক কার্যক্রমের দায়ে ২৩ জন ইরানি কর্মকর্তা ও ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আজকের এই নতুন প্যাকেজটি সেই বিধিনিষেধের পরিধি আরও বৃদ্ধি করবে।